নবী করিম (সা.) সবসময় পরকাল সম্পর্কে চিন্তিত থাকতেন। গম্ভীর থাকতেন। পরকালের ভয়াবহতা ও আখেরাতের আজাব সম্পর্কে সবাইকে তিনি সতর্ক করতেন। সচেতন করতেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যখন পবিত্র কোরআনের এই আয়াত নাজিল হয় 'ওয়া আনজির আশীরাতাকাল আক্বরাবীন' (অর্থাৎ হে নবী! আপনি আপনার নিকটাত্দীয়গণকে সাবধান করে দিন) তখন রসুল (সা.) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিলেন। ফলে তারা সবাই একত্রিত হয়ে গেল। তখন মানব দরদি রসুল (সা.) বললেন, তোমরা বল তো যদি এখন আমি তোমাদের বলি, এ পাহাড়ের উপত্যকায় এক অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী অতর্কিত তোমাদের প্রতি আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তবে কি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে? লোকগণ একযোগে বলে উঠল, হ্যাঁ। কারণ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্যবাদী রূপেই পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের সম্মুখের একটি কঠিন আজাব সম্পর্কে সতর্ক করছি। তাঁর এ কথাটি শুনে আবু লাহাব বলল, তোমার সারা জীবন ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদের এভাবে ডেকেছ? তখন নাজিল হলো, 'তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিও ওয়া তাব্বা' অর্থাৎ আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে ধ্বংস হোক। (বুখারি ও মুসলিম)। অপর বর্ণনায় এসেছে, তারা সমবেত হলে তিনি ব্যাপকভাবে এবং বিশেষভাবে কতিপয় গোত্রকে ডাক দিয়ে সতর্কবাণী শুনালেন। তিনি বললেন, হে কা'ব ইবনে লুয়াইর বংশধর! তোমরা তোমাদের আগুন থেকে বাঁচাও। যে আবদে মানাফের গোত্র! তোমরা নিজেদের দোজখের আগুন থেকে রক্ষা কর। হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! তোমরা তোমাদের দোজখের আগুন থেকে বাঁচাও। হে ফাতেমা! তুমি তোমার দেহকে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা কর। কেননা আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচার ক্ষমতা আমার নেই। তবে তোমাদের সঙ্গে আত্দীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সে সূত্রে আমি তোমাদের সঙ্গে দুনিয়ায় সদ্ব্যবহার করব (মুসলিম)। বুখারি ও মুসলিমের যৌথ বর্ণনায় রয়েছে, রসুল (সা.) বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! (আমার ওপর ইমান এনে) তোমরা তোমাদের জান্নাত ক্রয় করে নাও। (অর্থাৎ তোমরা দোজখের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা কর। আমি তোমাদের ওপর থেকে আল্লাহর আজাব এতটুকু দূর করতে পারব না। হে আবদে মানাফের বংশধর! আমি তোমাদের ওপর থেকে আল্লাহর আজাব এতটুকু দূর করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব। আমি তোমার ওপর থেকে আল্লাহর আজাব এতটুকু দূর করতে পারব না। হে ফুফি সাফিয়া! আমি তোমাকে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা করতে পারব না। হে কন্যা ফাতেমা! আমার কাছে পার্থিব-মালসামান থেকে যা ইচ্ছা তা চাইতে পার; কিন্তু আমি তোমাকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচাতে পারব না। প্রিয় পাঠক! পরকাল সম্পর্কে দোজাহানের সরদার, সর্বযুগের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রসুলে আরাবি (সা.)-এর অনুভূতি যদি এমন হয় তাহলে আমাদের অনুভূতি কেমন হওয়া উচিত এবং পরকালের প্রস্তুতিকল্পে আমাদের কী করণীয়, তা কখনো ভেবে দেখেছি কী? মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আমিন।
লেখক : খতিব, বাইতুর রহমত জামে মসজিদ, গাজীপুরা, টঙ্গী ।